Logo
Notice :
  • Welcome To Our Website...
News Headline :
গায়েবি মামলায় হয়রানির শিকার মেহেন্দিগঞ্জের এক পরিবার মেহেন্দিগঞ্জে কারামুক্ত আ’লীগ নেতা জামাল মোল্লাকে এলাকায় গণসংবর্ধনা কাশীপুরে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হওয়ার প্রত্যাশা লিটন মোল্লার ১৫০ টাকায় পৌঁছেছে সয়াবিন তেলের লিটার, বন্ধ টিসিবির বিক্রয় কেন্দ্র বরিশালে বিশ্ব মাসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে স্যানিটারী প্যাড বিতরন করেছে লাভ ফর ফ্রেন্ডস প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ তরুণ সাংবাদিক আল আমিন গাজীর শুভ জন্মদিন আজ প্রথম আলো’র জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামের মুক্তির দাবীতে উজিরপুর প্রেস ক্লাবের মানববন্ধন উজিরপুর এতিম ছাত্রদের নিয়ে বরিশাল বিভাগীয় অনলাইন সংবাদ পত্র সম্পাদক-প্রকাশক পরিষদের ইফতার মাহফিল বরিশালের নিউ আইকন ফার্নিচারে ঈদ উপলক্ষে চলছে বিশেষ ছাড়।
মেহেন্দিগঞ্জে শিক্ষক মসজিদের ইমামকে জুতার মালা দিয়ে অপদস্ত করার ঘটনায় মামলা, আত্মগোপনে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান, গ্রেপ্তার ১।

মেহেন্দিগঞ্জে শিক্ষক মসজিদের ইমামকে জুতার মালা দিয়ে অপদস্ত করার ঘটনায় মামলা, আত্মগোপনে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান, গ্রেপ্তার ১।


মেহেন্দিগঞ্জ প্রতিনিধি:
শিক্ষক ও মসজিদের ইমামকে জুতার মালা পরিয়ে ঘোরালেন চেয়ারম্যান। মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলারর দড়িরচর খাজুরিয়া ইউনিয়নে উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা রাঢ়ির নির্দেশে মসজিদের ইমামকে জুতার মালা পরিয়ে ঘোরানো হয়েছে। সেইসঙ্গে ওই দৃশ্যের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার উপজেলার দড়িচর খাজুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এদিন রাতেই ভুক্তভোগী ইমাম ইউপি চেয়ারম্যানসহ দুজনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এর পরই বজলু রহমান আকন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
লাঞ্ছনার শিকার ওই ইমামের নাম শহিদুল ইসলাম। তিনি মধ্য দড়িচর খাজুরিয়া দাখিল মাদ্রাসার অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর এবং স্টিমারঘাটের অদূরে সিকদার বাড়ি মসজিদের ইমাম। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দড়িচর খাজুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোস্তফা রাঢ়ির নির্দেশে তার কার্যালয়ে সালিশ বসানো হয়। এ সময় ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বর) শহিদুল ইসলাম, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বর) মো. ফিরোজ, বজলু আকন, আবুল বয়াতী, মো. কামরুজ্জমান, রিন্টু দেওয়ানসহ বেশ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।
মাদ্রাসার একাধিক শিক্ষক জানান, ২০১৯ সালে উপবৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মোবাইল হিসাব নম্বর পাঠানো হয়। তালিকা পাঠানোর সময় ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রী মাদ্রাসায় না আসায় সেখানে শহিদুল ইসলাম তার মোবাইল নম্বর দিয়ে দেন। সম্প্রতি ওই ছাত্রীর এক বছরের উপবৃত্তির ১ হাজার ৮০০ টাকা ওই মোবাইল নম্বরে জমা হয়। বিষয়টি শহিদুল ইসলাম ওই ছাত্রীর অভিভাবককে জানাতে ভুলে যান। পরে এ ঘটনা জানাজানি হলে ওই ছাত্রীর বাবা ৩০ মে মাদ্রাসায় এসে শহিদুল ইসলামকে মারধর করেন এবং তার মোবাইলের সিমটি নিয়ে যান। পরে বিষয়টি দড়িচড় খাজুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা রাঢ়ি জানতে পেরে সালিশের নির্দেশ দেন।
বুধবার সকাল ১০টার দিকে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে সালিশ বৈঠক বসে। সালিশ বৈঠকে উপস্থিত হলে শহিদুল ইসলামকে অকথ্য ভাষায় গালি দেওয়া হয়। পরে তার কাছ থেকে ৭০হাজার টাকা চাদা দাবী করেন, দাবীকৃত চাদার টাকা দিতে অস্বীকার করায় তাকে জুতা দিয়ে প্রহার করে জুতার মালা পরিয়ে স্টিমারঘাট বাজারে ঘোরানো হয়। দড়িচর খাজুরিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার আনিসুর রহমান বলেন, শুনেছি চেয়ারম্যান মোস্তফা রাঢ়ির নির্দেশে শহিদুল ইসলামকে জুতার মালা পরিয়ে স্টিমারঘাট বাজারে ঘোরানো হয়েছে। এটা উচিত হয়নি। শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তারা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারতেন। এই ঘটনায় মাদরাসার শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটি বৃহস্পতিবার সকালে একটি জরুরী মিটিং করেছেন। মিটিংয়ে ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। এবং তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানানো হয়য়।

ভুক্তভোগী শহিদুল ইসলাম জানান, ওই ছাত্রীর মোবাইল নম্বর না থাকায় উপবৃত্তির টাকা পাওয়ার জন্য তার মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘উপবৃত্তির টাকা যে সিমে এসেছে, সেই সিমটি দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। আর অফিসে নানা কাজের চাপে বিষয়টি মনেও ছিল না। কিন্তু এত ছোট একটি বিষয় নিয়ে এত কিছু হয়ে যাবে বুঝতে পারিনি। দীর্ঘ কর্মজীবনে কেউ কোনোদিন অভিযোগ করতে পারেনি। কিন্তু সামান্য একটি ভুলের জন্য যে অবিচার আমার ওপর করা হয়েছে তাদের বিচার আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিলাম।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার পীযুষ চন্দ্র দে বলেন, ‘রাতে ঘটনাটি জানতে পারি। সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও প্রতক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে রিপোর্ট দিতে বলেছি।’

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার তপন কুমার দাস বলেন, উপবৃত্তির টাকা নিয়ে যাই হোক, তার বিচারের এখতিয়ার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের নেই। যা ঘটেছে তা লজ্জাজনক।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান মোস্তফা রাঢ়ি জানান, শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। তিনি দুই ছাত্রীর উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ ছাড়া তিনি একটি ইনস্যুরেন্স কোম্পনিতে চাকরি করেন। কয়েকগুণ টাকা মুনাফা দেওয়ার কথা বলে লোকজনদের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তার এসব কর্মকাণ্ডের কারণে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি সালিশ বৈঠক করেছেন। সালিশ বৈঠকে তাকে ওই সব টাকা ফিরিয়ে দিতে বলা হয়। তিনি অপারগতা প্রকাশ করে নিজেই জুতার মালা পরেছেন।

মেহেন্দিগঞ্জ থানার সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) সুকুমার রায় বলেন, ইমামকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় আ’লীগ নেতা বজলু আকন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *