Logo
Notice :
  • Welcome To Our Website...
News Headline :
কাশীপুরে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হওয়ার প্রত্যাশা লিটন মোল্লার ১৫০ টাকায় পৌঁছেছে সয়াবিন তেলের লিটার, বন্ধ টিসিবির বিক্রয় কেন্দ্র বরিশালে বিশ্ব মাসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে স্যানিটারী প্যাড বিতরন করেছে লাভ ফর ফ্রেন্ডস প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ তরুণ সাংবাদিক আল আমিন গাজীর শুভ জন্মদিন আজ প্রথম আলো’র জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামের মুক্তির দাবীতে উজিরপুর প্রেস ক্লাবের মানববন্ধন উজিরপুর এতিম ছাত্রদের নিয়ে বরিশাল বিভাগীয় অনলাইন সংবাদ পত্র সম্পাদক-প্রকাশক পরিষদের ইফতার মাহফিল বরিশালের নিউ আইকন ফার্নিচারে ঈদ উপলক্ষে চলছে বিশেষ ছাড়। বরিশাল অনলাইন প্রেসক্লাব’র অনুমোদন দিলো বাংলাদেশ অনলাইন প্রেসক্লাব বরিশাল বিভাগীয় অনলাইন প্রকাশক ও সম্পাদক পরিষদ কমিটি গঠন
মেহেন্দিগঞ্জের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: কামরুজ্জামান ও শাকিলা গিলে খাচ্ছে জরুরী বিভাগ! নি:স্ব রোগীরা মেডিকেল প্রশাসন নিশ্চুপ

মেহেন্দিগঞ্জের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: কামরুজ্জামান ও শাকিলা গিলে খাচ্ছে জরুরী বিভাগ! নি:স্ব রোগীরা মেডিকেল প্রশাসন নিশ্চুপ

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক // স্বাস্থ্য খাতে অনিয়ম-দুর্নীতি যেন দিন দিন ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস শুরুর পর থেকেই স্বাস্থ্য খাতে একেরপর এক অপকর্ম প্রকাশ্যে উঠে আসে। আর এ সকল অনিয়ম-দূর্নীতির সাথে জড়িত রাঘব বোয়ালকেই চিহ্নিত করা গেছে।

যার ধরুন রিজেন্ট হাসপাতালের শাহেদ করিম ও ডা, সাবরিনা। নানান অনিয়ম দুর্নীতি প্রকাশ্যে আসার পর ফেসে গেছেন দুজনেই আইনের বেড়াজালে। এমন অনেক শাহেদ করিম ও সাবরিনার অপকর্ম সময়ের ব্যবধানে সামনে আসলেও অধিকাংশ-ই চাপা পরে যায় অদৃশ্য কোন শক্তির ছায়াবলে । একজন রোগাক্রান্ত অসহায় মানুষের ভরসাস্থল হয়ে দ্বাড়ায় হাসপাতাল । আর হাসপাতালের রক্ষকরা যখন ভক্ষকের ভুমিকা পালন করে তখন অসহায় রোগীরা হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়ে কিংবা নিঃস্ব হয়ে ঘরে ফিরতে হয়। এমনই একটি হাসপাতাল মেহেন্দিগঞ্জের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। যেখানে রোগীদের জিম্মি করে নিঃস্ব হয়ে ফিরে যেতে হয় ঘরে । ভক্ষকের ভুমিকা পালনকারী সেই দানবরুপী দ্বায়িত্বরত কর্মকর্তা বা কর্মচারী দুর-দুরান্ত থেকে আসা অসহায় রোগিদের অবিরত গলা কেটে চলে।

 

 

যদিও এ সকল অপকর্ম সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের অগোচরে নয় তথাপিও কোন ব্যবস্থা গ্রহনে উদ্যেগ নিতে দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ চোখে পড়েনি ভুক্তভুগীদের। রোগীদের জিম্মি করে হয়রানী, পছন্দের ডায়াগনস্টিকে পাঠিয়ে পরিক্ষা-নিরীক্ষা অন্যথায় রিপোর্ট ছুড়ে ফেলে দেয়া, অশ্রাব্যগালাগাল, হয়রানী, চিকিৎসাবিহীন রোগীদের তাড়িয়ে দেয়া, ভর্তিতে অতিরিক্ত অর্থ আদায় না দিলে ভর্তিতে অনিচ্ছা, গুরুত্বর আহত রোগীদের ওষুধপত্র সরকার কর্তিক সাপ্লাই থাকা সত্তেও না দেয়া,কাটা-ছেড়া রোগিদের ব্যন্ডেজ অথবা গজ হাসপাতাল থেকে না দিয়ে পছন্দের ফার্মেসি থেকে ক্রয় করাতে বাধ্যকরাসহ নানান অনিয়ম দুর্নীতির আখড়ায় পরিনত হয়েছে মেহেন্দিগঞ্জের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। আর এ সকল অনিয়ম দুর্ণিতির অন্য কারো মাধ্যমে নয় খোদ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের উপ-সহকারি কমিউনটি মেডিকেল অফিসার কামরুজ্জামান,শাকিলা ইসরাতের স্বেচ্ছাচারিতায় হয়ে আসছে। অভিযুক্ত এ দুজনের বিরুদ্ধে ভুক্তভুগীদের অেিভ্যাগের যেন পাহাড় তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ ক্ষোভে এ হাসপাতাল থেকে সেবা নেয়াও বন্ধ করে দিয়েছেন। এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির জরুরী বিভাগ এখন কামরুজ্জামান,শাকিলা ইসরাতের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। জরুরি বিভাগের উপ-সহকারি কমিউনটি মেডিকেল অফিসারের দায়িত্বে থাকায় জরুরী বিভাগে আগত সকল রোগীদের নিত্য জিম্মি করে গলা কাটছে কামরুজ্জামান ও শাকিলা ইসরাত। সরকারী হাসপাতাল হওয়া সত্ত্বেও এখানে বেসরকারী হাসপাতালের কর্মাকান্ড চালিয়ে স্বার্থ হাসিলে বেশ তৎপর রয়েছে অভিযুক্ত এ দুজন। ভুক্তভুগীর দেয়া অভিযোগের জানা যায়, মেহেন্দিগঞ্জের চরএককরিয়া ইউনিয়নের দাদপুর এলাকার ছোয়েল চন্দ্র বৈদ্য (৮০) নামের এক বৃদ্ধ গত শুক্রবার চিকিৎসা নিতে আসেন হাসপাতালটির জরুরি বিভাগে। কিন্তু সেখানে দায়িত্বে থাকা দানবরুপী ভক্ষক কামরুজ্জামান চিকিৎসার জন্য দাবী করে বসে অর্থ, এছাড়াও স্পস্ট জানিয়ে দেয় টাকা ছাড়া এখানে মিলেনা চিকিতসা। ভুক্তভুগী অসহায় হওয়ায় তার শর্তমোতাবেক কাজ হাসিল না হওয়ায় এবার শিকার হতে হয় অসৎ আচরনের। পরে ভুক্তভুগী চিকিৎসার অভাবে বাধ্য হয়েই ফিরে যেতে হয় বাড়িতে। ওই হাসপাতালের ডাঃ সজল দত্তের কাছে পরে হাতে ফেক্সার হওয়ায় তাকে ব্যান্ডিজের জন্য জরুরি বিভাগে পাঠান ডাঃ সজল দত্ত। প্রথমে তাকে সেবা দিতে অস্বীকৃতি জানালেও পরে দাবীকৃত ৫০০ টাকা এবং ব্যান্ডিজের আনুষঙ্গিক বাহির থেকে কিনে দিলে তার চিকিৎসা করেন জরুরি বিভাগের দায়িত্বে থাকা উপ কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার কামরুজ্জামান। এ ছাড়াও উপজেলার চরএককরিয়া ইউনিয়নের চরলতা এলাকার গৃহবধূ ছালমা বেগম (৩৫) একটি মারামারির ঘটনায় চিকিৎসা নিতে একইদিনে সন্ধ্যায় আসেন জরুরি বিভাগে। কিন্তু তাকে টাকা ছাড়া চিকিৎসা সেবা কিংবা ভর্তি করাতে অপারগতা প্রকাশ করেন দায়িত্বে থাকা কামরুজ্জামান এবং এই রোগী সাথেও খারাপ ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানান আহত ছালমার স্বামী নান্নু কাজী। এদিকে উপ-সহকারি কমিউনটি মেডিকেল অফিসার শাকিলা ইসরাতও মেতেছেন রোগিদের নিঃস্ব করার মিশনে। যতক্ষন মিশনে সফল না হন ততক্ষনই রোগীদের উপর চালিয়ে যান মানুষিক নির্যাতন। আবার কেউ কেউ চিকিৎসা সেবা না নিয়ে তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ঘরমুখী হন ।

 

 

অর্থাৎ , চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে দানবরুপীদের অপকৌশলে হার মানেন । অভিযোগ রয়েছে, পছন্দের ডায়াগনস্টিক থেকে পরিক্ষা-নিরীক্ষা না করালে তার রিপোর্ট ডাক্তার অবধি পৌছাতে রোগীদের পোহাতে হয় কাঠগর। মেহেন্দিগঞ্জের এ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন হাজার-হাজার রোগিরা চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন। কেউ প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহন শেষে বাড়ি ফিরতে পারে আবার অবস্থা গুরুতর হলে নানান পরিক্ষা-নিরিক্ষাও করাতে হয় রোগীদের । এ সুযোগে শাকিলা ইসরাত তার স্বার্থ হাসিলে হয়ে উঠেন বেপরোয়া। অভিযোগ রয়েছে, শাকিলা ইসরাতের বাবা ও ভাইয়ের মালিকানাধীন একটি ডায়গানস্টিকে পরিক্ষা-নিরিক্ষার সম্মুখীন রোগীদের জিম্মি করে অধিক লাভ ও কমিশনের আশায় নানান ভাবে হয়রানী করে চলেছেন। তার ডাক্তার পরিক্ষা লেখা মাত্রই রোগীদের থেকে কাগজ নিয়ে খুব কর্কশ ভাবেই আদেশ করেন আমুক ডায়াগনস্টিক থেকে পরিক্ষা না করালে ডাক্তার অবধি ফাইল যাবেনা । রোগীদের সাথে নিয়ে বেশ কয়েকবার তার সাথে বাকবিতন্ডাসহ রোগীদের লাঞ্চিতের ঘটনাও ঘটিয়েছেন এ নারী ভক্ষক।

 

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রোগী জানান, আমি এ হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিতে আসলে ডাক্তার আমাকে কিছু পরিক্ষা- নিরিক্ষা দেয়। পরে আমি শাকিলা ইসরাত ম্যাডাম আমার পরিক্ষা নিরিক্ষার বিষয়টি জেনে তিনি একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে পরিক্ষা করাতে বলে অন্যথায় ডাক্তার ওষুধ লিখবেন না বলে জানায়। একপর্যায়ে তার সাথে আমার কথা কাটাকাটি হলে আমাকে সেখানেই লাঞ্চিত করে । আমি এ বিষয়টির বিচারের দাবী জানাই। এভাবেই দুর-দুরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা প্রতিনিয়ত হয়রানীর শিকার হয়ে চলছে এ স্বাস্থ কমপ্লেক্সটিতে । শাকিলা ইসরাত ও কামরুজ্জামানের স্বেচ্ছাচারিতায় রোগীদের অবস্থা এখন নাঝেহাল পর্যায়ে পৌছেছে। এমতবস্থায় রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভুমিকা পালনকারী এ দুজনের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানিয়ে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন ভুক্তভুগীরা।

 

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নিকট হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভুগীসহ জনসাধারন। এদিকে অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্ত কামরুজ্জামানের কর্মস্থল মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার উলানিয়া ইউনিয়ন কমিউনিটি ক্লিনিকে অথচ কিন্তু স্থানীয় মেডিক্যাল প্রশাসনকে ম্যানেজ করে বছরের পর বছর তিনি মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্বে থেকে রোগিদের জিম্মি ব্যবসায় জড়িত রয়েছেন। এ বিষয়ে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ এস এম রমিজ আহাম্মেদ‘র নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, ভুক্তভুগীদের থেকে অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *